'SAAT SAHEBER BIBI' in Chinsurah // ' সাত সাহেবার বিবি ' চুঁচুড়ায়
Episode description
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত ‘সাত খুন মাফ’ সিনেমাটি মনে আছে? সেই গল্পের আসল শিকড় কিন্তু লুকিয়ে এই বাংলায়। আরও স্পষ্ট করে বললে চুঁচুড়ায়। এই শহরেরই ‘সাত সাহেবার বিবি’ সুজানার জীবন অনুকরণে তৈরি হয় সিনেমাটি। কে এই সুজানা? তা জানতে পিছিয়ে যেতে হবে আড়াইশো বছর। সময়টা অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি। চুঁচুড়াকে ঘিরে বসতি গড়তে শুরু করেছে ওলন্দাজরা। আসছেন ওলন্দাজ বণিকদের স্ত্রীরাও। ১৭৫৪ সাল নাগাদ চুঁচুড়ায় এসে হাজির হন পিটার ব্রুয়িস। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী, সুজানা আনা মারিয়া ভারকার্ক। একটি ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে দিন কাটছিল তাঁদের। ১৭৮৩ সালে মৃত্যু হয় পিটারের। এর পরেই বদলে যায় সুজানার জীবন। একের পর এক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর। তাঁদেরই একজন টমাস ইয়েটস। জাতে ইংরেজ। ১৭৯৫ সালের ৩০ মার্চ কলকাতার অ্যাংলিকান চার্চে তাঁদের বিবাহ হয়। এই ছিল সুজানার জীবনের দু’টি বৈধ বিবাহ। কিন্তু লোকমুখে শোনা যায়, সুজানার প্রেমিক সংখ্যা ছিল অসংখ্য। কেউ কেউ বলেন, ওলন্দাজ, রাশিয়ান, ইংরেজের পাশাপাশি তালিকায় দু’-একজন ভারতীয় থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, সুজানার স্বামী বা প্রেমিক—প্রত্যেকের মৃত্যু ঘিরেই রয়েছে রহস্য। কারও মৃত্যু হয়েছে অপঘাতে, কেউ আবার আত্মঘাতী হন বিষ খেয়ে...। এসবে অবশ্য থেমে থাকেনি সুজানার জীবন। আবার নতুন করে ঘর বাঁধতেন তিনি। লোকের মুখে মুখে এভাবেই সুজানার স্বামী-প্রেমিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাত। তিনি হয়ে ওঠেন, ‘সাত সাহেবার বিবি।’ ১৮০৯ সালের ১২ মে মৃত্যু হয় সুজানার। তাঁর জীবন নিয়ে রাস্কিন বন্ড লেখেন ‘সুজানা’স সেভেন হাজব্যান্ডস।’ চুঁচুড়ায় খাদিনা মোড় থেকে প্রিয়নগরের দিকে যেতে বাঁ হাতে জিটি রোডের ধারে সাদা মন্দিরের মতো দেখতে একটা স্থাপত্য চোখে পড়ে। এক ঝলকে মন্দির বলে মনে হলেও তা আসলে ‘সাত সাহেবের বিবি’ সুজানার সমাধিস্থল।
তথ্যসূত্র:বর্তমান পত্রিকা।
সূত্রধর: অর্ণব
Facebook:
https://facebook.com/EtiTomaderArnab
Insta:
https://instagram.com/eti_tomader_arnab
Youtube:
